জবা (Hibiscus) এমন একটি ফুলগাছ যা সঠিক যত্ন পেলে প্রায় সারা বছরই ফুল দিতে পারে। কিন্তু অনেক বাগানপ্রেমীর সাধারণ অভিযোগ হলো—গাছ সবুজ আছে, নতুন পাতা বের হচ্ছে, কিন্তু ফুলের সংখ্যা খুবই কম। আবার কেউ কেউ নিয়মিত সার (Best Fertilizer for Hibiscus Plant) ব্যবহার করলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পান না।
আসলে জবা গাছে কী সার দেওয়া উচিত, এর উত্তর শুধু একটি নির্দিষ্ট সারের নাম নয়। গাছের বয়স, মাটির গুণমান, টবের আকার, ঋতু এবং গাছের বর্তমান অবস্থা—সবকিছু বিবেচনা করে সারের নির্বাচন করতে হয়।
অনেক সময় দেখা যায়, জবা গাছ একেবারে সবুজ ও সুস্থ দেখাচ্ছে, নতুন পাতাও বের হচ্ছে, কিন্তু মাসের পর মাস একটি ফুলও আসছে না। তখন বেশিরভাগ বাগানপ্রেমী নতুন সার খুঁজতে শুরু করেন। কিন্তু বাস্তবে সমস্যাটা সবসময় সারের অভাব নয়। অনেক ক্ষেত্রে ভুল ধরনের সার, অতিরিক্ত নাইট্রোজেন বা অনিয়মিত সার ব্যবহারের কারণেও ফুল কমে যেতে পারে। তাই জবা গাছে বেশি ফুল পেতে হলে গাছের পুষ্টির ভারসাম্য বোঝা জরুরি।
এই গাইডে আপনি জানবেন:
- জবা গাছের জন্য সবচেয়ে ভালো সার কোনগুলো
- কোন সার পাতা বাড়ায় আর কোন সার ফুল বাড়ায়
- জৈব ও ঘরোয়া সার ব্যবহারের নিয়ম
- NPK-এর ভূমিকা
- নতুন ও পুরনো জবা গাছের পুষ্টি চাহিদার পার্থক্য
জবা গাছের জন্য সবচেয়ে ভালো সার কোনটি? (Best Fertilizer for Hibiscus Plant)
একটি মাত্র সারকে “সেরা” বলা কঠিন। কারণ জবা গাছের বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টির প্রয়োজন হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে বাগানপ্রেমীদের মধ্যে কয়েকটি সার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
১. ভার্মিকম্পোস্ট (Vermicompost)
জবা গাছের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর জৈব সারের মধ্যে ভার্মিকম্পোস্ট অন্যতম।
এর উপকারিতা:
- মাটির জৈব উপাদান বাড়ায়
- মাটির পানি ধরে রাখার ক্ষমতা উন্নত করে
- উপকারী অণুজীব বৃদ্ধি করে
- ধীরে ধীরে পুষ্টি সরবরাহ করে
টবে থাকা জবা গাছের ক্ষেত্রে প্রতি ২০–৩০ দিনে একবার ১–২ মুঠো ভার্মিকম্পোস্ট ব্যবহার করা যেতে পারে।
২. সরিষার খোলের সার
বাংলার বাগানপ্রেমীদের কাছে সরিষার খোল বহুদিনের পরিচিত একটি সার।
এটি:
- গাছের বৃদ্ধি বাড়াতে সাহায্য করে
- নতুন ডাল ও পাতার উৎপাদন বাড়ায়
- সামগ্রিক গাছের স্বাস্থ্য উন্নত করতে সহায়ক
তবে খেয়াল রাখতে হবে, ঘন খোলের জল সরাসরি ব্যবহার করা উচিত নয়। সবসময় পর্যাপ্ত পরিমাণে জল মিশিয়ে পাতলা করে ব্যবহার করতে হবে।
৩. বোন মিল (Bone Meal)
বোন মিলে ফসফরাসের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকে।
ফসফরাসের কাজ:
- শিকড়ের বৃদ্ধি উন্নত করা
- কুঁড়ি তৈরি উৎসাহিত করা
- ফুলের সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করা
যেসব জবা গাছে ফুল কম আসে, তাদের জন্য বোন মিল সহায়ক হতে পারে।
৪. কম্পোস্ট
ভালোভাবে পচানো কম্পোস্ট জবা গাছের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পুষ্টির উৎস হিসেবে কাজ করে।
বিশেষ করে:
- ছাদ বাগান
- বড় টব
- মাটিতে লাগানো জবা
এর ক্ষেত্রে কম্পোস্ট খুবই কার্যকর।
৫. সি-উইড এক্সট্র্যাক্ট (Seaweed Extract)
এটি সরাসরি ফুলের সার না হলেও গাছের সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত করতে ব্যবহৃত হয়।
অনেক বাগানপ্রেমী এটি ব্যবহার করেন:
- Root development-এর জন্য
- Transplant shock কমানোর জন্য
- Nutrient uptake বাড়ানোর জন্য

জবা গাছে কোন সার দিলে বেশি পাতা হয়, আর কোন সার দিলে বেশি ফুল হয়? (Fertilizer For Hibiscus Flower)
অনেকেই মনে করেন বেশি সার মানেই বেশি ফুল। বাস্তবে বিষয়টি এত সহজ নয়।
গাছের বিভিন্ন পুষ্টি বিভিন্ন কাজ করে।
নাইট্রোজেন (Nitrogen)
নাইট্রোজেনের মূল কাজ:
🌿 নতুন পাতা তৈরি করা
🌿 ডালপালা বৃদ্ধি করা
🌿 সবুজ বৃদ্ধি উৎসাহিত করা
তাই যদি গাছে অতিরিক্ত নাইট্রোজেন দেওয়া হয়, তাহলে দেখা যায়:
- পাতা অনেক হচ্ছে
- গাছ দেখতে সুন্দর লাগছে
- কিন্তু ফুল কম আসছে
ফসফরাস (Phosphorus)
ফসফরাস ফুলের গাছের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এটি:
🌺 কুঁড়ি তৈরিতে সাহায্য করে
🌺 ফুলের সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করে
🌺 শিকড় শক্তিশালী করে
যদি আপনার জবা গাছে পাতা ঠিকঠাক হয় কিন্তু ফুল কম আসে, তাহলে ফসফরাসের ঘাটতি একটি কারণ হতে পারে।
পটাশিয়াম (Potassium)
পটাশিয়ামের কাজ:
- গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো
- ফুলের মান উন্নত করা
- সামগ্রিক শক্তি বৃদ্ধি করা
ফুলের গাছের জন্য পটাশিয়ামও গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান।
NPK কী এবং জবা গাছের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
সারের প্যাকেটের গায়ে প্রায়ই NPK লেখা থাকে।
এখানে:
N = Nitrogen
P = Phosphorus
K = Potassium
উদাহরণস্বরূপ:
10:26:26
মানে:
- 10% Nitrogen
- 26% Phosphorus
- 26% Potassium
এই ধরনের সারে ফসফরাস ও পটাশিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকায় অনেক বাগানপ্রেমী ফুলের গাছের জন্য এগুলো ব্যবহার করেন। তবে রাসায়নিক সার ব্যবহার করার সময় প্রস্তুতকারকের নির্দেশিকা অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। অতিরিক্ত প্রয়োগ করলে গাছের শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

জবা গাছের জন্য সেরা জৈব বা ঘরোয়া সার
অনেকেই রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব উপায়ে জবা গাছের যত্ন নিতে চান। সেক্ষেত্রে কয়েকটি জনপ্রিয় বিকল্প রয়েছে।
কলার খোসার সার
কলার খোসায় পটাশিয়াম থাকে, যা ফুলের গাছের জন্য উপকারী।
ব্যবহারের পদ্ধতি:
- শুকিয়ে গুঁড়ো করে মাটিতে মেশানো
- কম্পোস্টে যোগ করা
তবে শুধুমাত্র কলার খোসার উপর নির্ভর করা উচিত নয়।
ভার্মিকম্পোস্ট + সরিষার খোল
এটি অনেক balcony gardener-এর প্রিয় combination।
কারণ:
- জৈব উপাদান বৃদ্ধি করে
- ধীরে ধীরে পুষ্টি সরবরাহ করে
- গাছের সামগ্রিক বৃদ্ধি ভালো রাখে
রান্নাঘরের কম্পোস্ট
সঠিকভাবে compost করা kitchen waste গাছের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে কাঁচা রান্নাঘরের বর্জ্য সরাসরি টবে দেওয়া উচিত নয়।
আরও পড়ুন
নতুন জবা গাছ ও পুরনো জবা গাছের সার ব্যবহারের পার্থক্য
নতুন কাটিং বা সদ্য লাগানো জবা গাছের ক্ষেত্রে খুব বেশি সার ব্যবহার করার প্রয়োজন হয় না।
প্রথম কয়েক সপ্তাহে মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত:
- শিকড়ের বৃদ্ধি
- গাছকে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া
অন্য দিকে, পুরনো ও প্রতিষ্ঠিত জবা গাছের ক্ষেত্রে নিয়মিত পুষ্টি সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যে সব গাছ নিয়মিত ফুল দেয়, তাদের পুষ্টির চাহিদাও বেশি হয়।
টবে লাগানো জবা গাছে সার দেওয়ার সঠিক নিয়ম
মাটিতে লাগানো জবা গাছের তুলনায় টবের গাছের পুষ্টির চাহিদা আলাদা। কারণ টবের মাটির পরিমাণ সীমিত এবং জল দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক পুষ্টি ধীরে ধীরে বেরিয়ে যায়। তাই টবের জবা গাছের ক্ষেত্রে নিয়মিত ও পরিমিত সার প্রয়োগ গুরুত্বপূর্ণ।
সাধারণভাবে একটি সুস্থ টবের জবা গাছের জন্য:
- প্রতি ২০–৩০ দিনে ভার্মিকম্পোস্ট
- মাসে ১–২ বার পাতলা সরিষার খোলের জল
- প্রয়োজন অনুযায়ী ফসফরাস সমৃদ্ধ সার
ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে একই দিনে একাধিক ধরনের সার ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে গাছের উপর অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

জবা গাছে কী সার দেওয়া উচিত: ঋতুভেদে পরিকল্পনা
অনেক বাগানপ্রেমী সারা বছর একই নিয়মে সার ব্যবহার করেন। কিন্তু বাস্তবে জবা গাছের চাহিদা ঋতুভেদে কিছুটা পরিবর্তিত হয়।
গ্রীষ্মকাল (এপ্রিল – জুন)
এই সময়ে গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
ব্যবহার করতে পারেন:
- ভার্মিকম্পোস্ট
- পাতলা সরিষার খোলের জল
- সি-উইড এক্সট্র্যাক্ট
অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহার না করাই ভালো, বিশেষ করে তীব্র গরমের সময়ে।
বর্ষাকাল (জুন – সেপ্টেম্বর)
বর্ষা জবা গাছের বৃদ্ধির জন্য অন্যতম ভালো সময়।
এই সময়ে:
- নতুন ডাল বের হয়
- দ্রুত বৃদ্ধি হয়
- অনেক ক্ষেত্রে ফুলের সংখ্যাও বাড়ে
তবে অতিরিক্ত জল জমে গেলে শিকড়ের সমস্যা হতে পারে।
বর্ষায়:
- হালকা জৈব সার
- বোন মিল
- ভার্মিকম্পোস্ট
ব্যবহার করা যেতে পারে।
শীতকাল (নভেম্বর – ফেব্রুয়ারি)
অনেক অঞ্চলে শীতকালে জবা গাছের বৃদ্ধি ধীর হয়ে যায়।
এই সময়ে:
- অতিরিক্ত সার প্রয়োজন হয় না
- হালকা জৈব সার যথেষ্ট
অতিরিক্ত নাইট্রোজেন দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
Nursery-তে জবা গাছে কী ধরনের সার বেশি ব্যবহার করা হয়? (Organic Fertilizer for Hibiscus)
স্থানীয় নার্সারি বা অভিজ্ঞ বাগানিদের গাছ লক্ষ্য করলে একটি বিষয় সহজেই বোঝা যায়—তারা সাধারণত একটি মাত্র সারের উপরে নির্ভর করেন না। বরং জৈব সার, কম্পোস্ট এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ফুলের জন্য উপযোগী পুষ্টির সমন্বয় ব্যবহার করেন। ফলে গাছ শুধু সবুজই থাকে না, নিয়মিত কুঁড়ি ও ফুলও দিতে পারে।
সাধারণত:
- জৈব কম্পোস্ট
- ভার্মিকম্পোস্ট
- বোন মিল
- ফসফরাস সমৃদ্ধ সার
সমন্বয় করে ব্যবহার করা হয়।
কারণ সুস্থ জবা গাছের জন্য শুধু ফুল নয়, শক্তিশালী শিকড় এবং স্বাস্থ্যকর পাতাও প্রয়োজন।

জবা গাছে ফুল না এলে কোন সার দেবেন?
এটি সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্নগুলোর একটি।
যদি:
✅ গাছ সুস্থ থাকে
✅ পর্যাপ্ত রোদ পায়
✅ পাতা ভালো থাকে
কিন্তু ফুল কম আসে,
তাহলে সমস্যা অনেক সময় পুষ্টির ভারসাম্যের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
এই ক্ষেত্রে:
- ফসফরাস সমৃদ্ধ সার
- বোন মিল
- ভার্মিকম্পোস্ট
সহায়ক হতে পারে।
তবে সার দেওয়ার আগে নিশ্চিত করুন:
- গাছ প্রতিদিন অন্তত ৫–৬ ঘণ্টা রোদ পাচ্ছে কি না
- টব খুব ছোট হয়ে গেছে কি না
- গাছের ডাল ছাঁটাই প্রয়োজন কি না
কারণ শুধু সার পরিবর্তন করলেই সবসময় সমস্যার সমাধান হয় না।
আরও পড়ুন
- জবা গাছ বাড়ির কোন দিকে লাগানো উচিত? বাস্তু মতে সঠিক দিক ও ফুল বাড়ানোর টিপস
- এই ৫ লক্ষণ দেখলেই জবা গাছের টব বদলান! রিপটিং গাইড | How to Repot Hibiscus Plant
- গরমে জবা গাছ শুকিয়ে যাচ্ছে? গাছ সতেজ করার ম্যাজিক ট্রিক জানুন| Why is My Hibiscus Plant Dying?
- জবা গাছের পাতা হলুদ হয়ে যাচ্ছে কেন? আসল কারণ ও প্রতিকার | Hibiscus Yellow Leaves Solutions
- জবা গাছে কী সার দেওয়া উচিত? বেশি কুঁড়ি ও ফুল পেতে সেরা সারগুলির তালিকা | Best Fertilizer for Hibiscus Plant
শুধু পাতা হচ্ছে, ফুল হচ্ছে না? এই বিষয়গুলোও পরীক্ষা করুন
অনেক সময় সার পরিবর্তন করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। কারণ সমস্যার মূল কারণ অন্য কোথাও থাকতে পারে।
নিচের বিষয়গুলো একবার পরীক্ষা করে দেখুন:
- গাছ কি প্রতিদিন অন্তত ৫–৬ ঘণ্টা সরাসরি রোদ পাচ্ছে?
- টব কি খুব ছোট হয়ে গেছে?
- অনেক পুরনো ডাল কি এখনও ছাঁটাই করা হয়নি?
- নিয়মিত জল দেওয়া হচ্ছে কি?
- মিলিবাগ বা অন্য কোনো পোকা আক্রমণ করেছে কি?
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, সার ঠিক থাকলেও রোদের অভাব বা দীর্ঘদিন প্রুনিং না করার কারণে ফুলের সংখ্যা কমে যায়।
জবা গাছে সার দেওয়ার ৭টি সাধারণ ভুল
১. শুকনো মাটিতে সার দেওয়া
শুকনো মাটিতে সার দিলে শিকড়ের ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। সার দেওয়ার আগে হালকা জল দিন।
২. অতিরিক্ত খোলের জল ব্যবহার
অনেকেই ভাবেন বেশি খোল মানেই বেশি ফুল। বাস্তবে অতিরিক্ত ব্যবহার গাছের ক্ষতি করতে পারে।
৩. গরম দুপুরে Liquid Fertilizer
দুপুরের প্রচণ্ড গরমে তরল সার ব্যবহার না করাই ভালো। সকাল বা বিকেল বেশি উপযোগী।
৪. একই দিনে অনেক সার
একসঙ্গে:
- খোলের জল
- NPK
- কম্পোস্ট
সব দেওয়া ভালো অভ্যাস নয়।
৫. শুধু নাইট্রোজেন নির্ভর সার
ফলে গাছ সবুজ হবে, কিন্তু ফুল কমতে পারে।
৬. নিয়মিত মাটি পরিবর্তন না করা
টবের মাটির পুষ্টি ধীরে ধীরে কমে যায়। প্রতি বছর অন্তত একবার মাটির উপরের অংশ নবায়ন করা উপকারী।
৭. রোদ কম পাওয়া সত্ত্বেও সার বাড়িয়ে দেওয়া
অনেক সময় সমস্যা সারের নয়, রোদের। জবা গাছ পর্যাপ্ত রোদ না পেলে ফুলের সংখ্যা কমে যেতে পারে।
জবা গাছের জন্য সহজ Fertilizer Chart
| প্রয়োজন | উপকারী সার |
| নতুন বৃদ্ধি | ভার্মিকম্পোস্ট, সরিষার খোল |
| বেশি কুঁড়ি | বোন মিল, ফসফরাস সমৃদ্ধ সার |
| শিকড় শক্তিশালী করা | বোন মিল |
| মাটির স্বাস্থ্য উন্নত করা | কম্পোস্ট, ভার্মিকম্পোস্ট |
| সামগ্রিক স্বাস্থ্য | সি-উইড এক্সট্র্যাক্ট |
এক নজরে: জবা গাছে কী সার দেওয়া উচিত? (Fertilizer for Hibiscus Flower)
যদি সহজ উত্তর চান, তাহলে একটি সুস্থ জবা গাছের জন্য সাধারণত নিচের সমন্বয়টি কার্যকর হতে পারে:
✅ ভার্মিকম্পোস্ট
✅ সরিষার খোলের পাতলা জল
✅ বোন মিল
✅ কম্পোস্ট
✅ প্রয়োজন অনুযায়ী ফসফরাস সমৃদ্ধ সার
শুধু একটি সারের উপর নির্ভর না করে সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
জবা গাছে সার দেওয়ার মাসিক রুটিন (সহজ গাইড)
যারা নতুন বাগান করছেন, তাদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—কখন কোন সার দেব?
নিচের রুটিনটি একটি সাধারণ টবে লাগানো সুস্থ জবা গাছের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
প্রথম সপ্তাহ
- ১–২ মুঠো ভার্মিকম্পোস্ট
দ্বিতীয় সপ্তাহ
- শুধু নিয়মিত জল ও রোদ
তৃতীয় সপ্তাহ
- পাতলা সরিষার খোলের জল
চতুর্থ সপ্তাহ
- প্রয়োজন হলে বোন মিল বা ফসফরাস সমৃদ্ধ সার
এরপর একই চক্র আবার শুরু করা যেতে পারে। তবে গাছের অবস্থা, ঋতু এবং টবের আকার অনুযায়ী প্রয়োজন কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।
বি.দ্র : এই ব্লগে শেয়ার করা টিপসগুলো আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং সাধারণ বাগান পরিচর্যার ওপর ভিত্তি করে লেখা। গাছের অবস্থা, আপনার অঞ্চলের আবহাওয়া এবং প্রয়োগ পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে ফলাফল ভিন্ন হতে পারে। কোনো সার বা ঘরোয়া টোটকা বড় আকারে প্রয়োগ করার আগে গাছের একটি ছোট অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।
আপনি যদি বাগান করতে ভালোবাসেন এবং নিয়মিত নতুন টিপস, গাছের যত্নের সহজ উপায় ও ছাদবাগানের অভিজ্ঞতা জানতে চান, তাহলে বং গার্ডেনের কমিউনিটিতে যোগ দিন। আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হলে সরাসরি গার্ডেনিং টিপস, সমস্যা সমাধান ও নতুন পোস্টের আপডেট পাবেন। আর ফেসবুক পেজে থাকলে প্রতিদিন বাগান সম্পর্কিত ছবি ও দরকারি তথ্য দেখতে পারবেন। লিঙ্কে ক্লিক করে এখনই Bong Garden পরিবারের অংশ হয়ে যান।
চটজলদি সমাধান
জবা গাছে কতদিন পর পর সার দিতে হবে?
সাধারণভাবে প্রতি ২০–৩০ দিনে জৈব সার দেওয়া যেতে পারে। তবে গাছের অবস্থা ও ব্যবহৃত সারের ধরন অনুযায়ী সময় পরিবর্তিত হতে পারে।
জবা গাছে শুধু পাতা হচ্ছে, ফুল হচ্ছে না কেন?
অতিরিক্ত নাইট্রোজেন, পর্যাপ্ত রোদের অভাব, অথবা ফুল তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি এর কারণ হতে পারে।
জবা গাছে বোন মিল ব্যবহার করা কি ভালো?
বোন মিল ফসফরাসের একটি ভালো উৎস। এটি শিকড় ও কুঁড়ি তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।
কলার খোসা কি জবা গাছের জন্য উপকারী?
কলার খোসায় পটাশিয়াম থাকে। এটি অন্যান্য সারের সঙ্গে পরিপূরক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
সরিষার খোলের জল কতদিন পর পর দেওয়া যায়?
অনেক বাগানপ্রেমী ১৫–২০ দিন অন্তর পাতলা করে ব্যবহার করেন। তবে অতিরিক্ত ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত।
শীতে কি জবা গাছে সার দিতে হবে?
শীতকালে গাছের বৃদ্ধি ধীর হতে পারে। তাই হালকা জৈব সার সাধারণত যথেষ্ট।
টবের জবা গাছের জন্য কোন সার সবচেয়ে নিরাপদ?
ভার্মিকম্পোস্ট নতুন ও অভিজ্ঞ—উভয় ধরনের বাগানপ্রেমীদের জন্যই নিরাপদ ও জনপ্রিয় একটি বিকল্প।

নমস্কার! আমি রূপকথা। ছাদ জোড়া বাগান আমাদের বাড়িতে। বেশিরভাগই ফুল গাছ। গাছপালার জন্য প্রায়ই নার্সারিতে ছুটতে হয়। এক কথায়, গাছপালা নিয়েই থাকতে ভালবাসি। এডিটর সিমন রায়ের অনুরোধে, এমন অভিনব একটি উদ্যোগে যুক্ত হই। বং গার্ডেনে আমার কাজ মূলত কন্টেন্ট স্ট্র্যাটেজি নিয়ে। মরসুমি ফুল গাছ নিয়ে আইডিয়া দিই আমি। ছবি তুলতেও খুবই ভাল লাগে।








